২০২২ সালে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল অনুসারে ভারত বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি হিসেবে বিবেচিত হয় (বৃদ্ধির হার ১১.৫%)। তবে, অর্থনীতির এই ক্রমবর্ধমান হার সত্ত্বেও, দেশটি সর্বোচ্চ শিশু দারিদ্র্যের সমস্যারও সম্মুখীন।
ওয়ার্ল্ড পভার্টি ক্লক-এর তথ্য অনুযায়ী, ভারতের জনসংখ্যার প্রায় ৬-৭ শতাংশ চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বাস করে এবং ০ থেকে ১৯ বছর বয়সী শিশুরা এর দ্বারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ইউনিসেফ ইন্ডিয়ার মতে, গ্রামীণ এলাকা, আদিবাসী সম্প্রদায়, শহরের দরিদ্র পরিবার, বস্তি ইত্যাদির মতো দরিদ্র পটভূমির শিশুরা অপুষ্টি, মানসম্মত স্বাস্থ্য ও শিক্ষার অভাব, স্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও স্যানিটেশন সুবিধার অভাব, শিশুশ্রম ইত্যাদির মতো নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয় ।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী জওহরলাল নেহরু যেমনটি বলেছেন, শিশুরাই জাতির ভবিষ্যৎ এবং আগামী দিনের নাগরিক। তাই, একটি সুস্থ ও সুন্দর জীবনযাপনের জন্য তাদের সঠিক পথ খুঁজে পেতে সাহায্য করা জরুরি। কিন্তু, এক্ষেত্রে কীভাবে সাহায্য করা যেতে পারে?
ভারতে দরিদ্র শিশুদের সাহায্য করার কয়েকটি সেরা উপায় নিচে দেওয়া হলো –
যে দেশে লক্ষ লক্ষ দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত শিশু নানা সমস্যায় ভুগছে, সেখানে অনুদান বিরাট সহায়ক হতে পারে।
কেউ চাইলে আর্থিক অনুদান অথবা সরকারি বা বেসরকারি সংস্থাকে সম্পদ অনুদান দিতে পারেন । নারায়ণ সেবা সংস্থান এটি ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় একটি এনজিও, যা সুবিধাবঞ্চিত শিশু ও দিব্যাঙ্গদের কল্যাণে জনসাধারণের কাছ থেকে আর্থিক অনুদান গ্রহণ করে ।
আপনি ইন্টারনেটে আপনার কাছাকাছি অনাথ আশ্রমগুলো সম্পর্কে অনুসন্ধান করেও সেখানে দান করতে পারেন। ‘ আমার কাছাকাছি শিশু অনাথ আশ্রম ‘ বা ‘আমার কাছাকাছি শিশু নিবাস’-এর মতো শিরোনাম দিয়ে গুগল করলেই কাজ হয়ে যেতে পারে।
কাছে না থাকলেও অনলাইনে অনুদান দেওয়া সম্ভব! আজকাল ভারতে অনলাইন অনুদান খুবই প্রচলিত, তাই স্থিতিশীল ইন্টারনেট সংযোগ থাকলে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে কোনো ঝামেলা ছাড়াই সহজে অনুদান দেওয়া যায়।
ভারতে শিশু শিক্ষা এনজিও বা শিশু স্বাস্থ্যসেবা সংস্থাগুলি সম্পর্কে অনুসন্ধান করে শিক্ষা বা স্বাস্থ্যের মতো কোনো নির্দিষ্ট ক্ষেত্রেও দান করতে পারেন ।
অর্থ ও সম্পদ দানের পাশাপাশি, আপনি স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে আপনার সময়ও এই শিশুদের সাহায্য করতে পারেন। এমন অনেক সংস্থা আছে যারা দাতব্য কাজ করতে ইচ্ছুক স্বেচ্ছাসেবকদের গ্রহণ করে।
গরিব শিশুদের সাহায্য করার জন্য, আপনি ম্যারাথন ও ওয়াকাথনের মতো বিভিন্ন তহবিল সংগ্রহকারী অনুষ্ঠানের আয়োজন ও তাতে অংশগ্রহণ করতে পারেন, অথবা শিশুদের জন্য বই ও খেলনা সংগ্রহের মতো অভিযান চালাতে পারেন।
শিশু কল্যাণে বিপুল পরিমাণ অর্থ দান করার পরিবর্তে, আপনি ব্যক্তিগতভাবে একজন প্রতিভাবান শিশুর পৃষ্ঠপোষকতা করে তাকে ভবিষ্যতে একটি উন্নত জীবন যাপনে সাহায্য করতে পারেন।
পৃষ্ঠপোষকতা না করলে, আপনি কোনো শিশুকে পরামর্শ দেওয়ার কথা ভাবতে পারেন অথবা তাকে একজন উপযুক্ত পরামর্শদাতা খুঁজে পেতে সাহায্য করতে পারেন, যাতে সে তার ভবিষ্যৎ পথের জন্য সঠিকভাবে পরিচালিত হতে পারে।
নারায়ণ সেবায় দরিদ্র বা বিশেষভাবে সক্ষম শিশুদের জন্য অনুদান সংস্থান
নারায়ণ সেবা সংস্থান একটি মর্যাদাপূর্ণ এবং বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত অলাভজনক দাতব্য প্রতিষ্ঠান , যার লক্ষ্য হলো সুবিধাবঞ্চিত ও দিব্যাঙ্গদের একটি সম্মানজনক এবং স্বাধীন জীবনযাপনে সহায়তা করা ও ক্ষমতায়ন করা।
সংস্থাটির শিশু কল্যাণমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম রয়েছে , যেমন দরিদ্র শিশুদের বিনামূল্যে মানসম্মত শিক্ষা প্রদান, দৃষ্টি বা শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য বিশেষ নির্দেশনামূলক শিক্ষা, বিশেষভাবে সক্ষম ও দরিদ্র শিশুদের জন্য সংশোধনমূলক অস্ত্রোপচার এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য চিকিৎসা ইত্যাদি।
সংস্থার ‘ ভগবান’ নামে একটি অনাথ আশ্রম আছে মহাবীর নিরাশ্রিত ‘ বালগৃহ’ -তে একশোরও বেশি অনাথ শিশু বাস করে। এছাড়াও তাদের শ্রবণ বা দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য একটি আবাসিক বিদ্যালয় এবং মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য একটি ‘এমআর হোম’ রয়েছে।
সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বিনামূল্যে মানসম্মত শিক্ষা প্রদানের উদ্দেশ্যে ২০১৫ সালে সংস্থাটির উদ্যোগে নারায়ণ চিলড্রেন একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয় । মানসম্মত শিক্ষার পাশাপাশি একাডেমিটি শিশুদের বিনামূল্যে দুপুরের খাবার, ইউনিফর্ম, স্বাস্থ্যসেবা ইত্যাদির মতো সুবিধাও প্রদান করে।
শিশু কল্যাণের জন্য দান করতে ইচ্ছুক দাতা হিসেবে, নারায়ণ সেবা সংস্থা হলো বেছে নেওয়ার জন্য অন্যতম সেরা একটি প্রতিষ্ঠান ।
সংস্থান , তাদের অর্ঘ্য এবং দান পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে আপনি এখানে ক্লিক করতে পারেন!