সনাতন ঐতিহ্যে আশ্বিন কৃষ্ণ পক্ষের একাদশীকে ইন্দিরা একাদশী নামে জানা যায়। এটি পিতৃপক্ষের পবিত্র সময়ে আসার কারণে বিশেষ ধর্মীয় গুরুত্ব রাখে। এই তিথি ভগবান বিষ্ণুর আরাধনার সঙ্গে নিজের পিতৃপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা অর্পণের সুযোগ প্রদান করে। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, ইন্দিরা একাদশীর দিনে শ্রদ্ধার সঙ্গে ব্রত, ভগবান বিষ্ণুর পূজা, হরি নাম স্মরণ, পিতৃপুরুষদের নিমিত্ত তর্পণ ও দান-পুণ্য করলে পিতৃপুরুষদের আত্মা শান্তি পায় এবং সাধকও পুণ্য ও আধ্যাত্মিক শান্তির অভিজ্ঞতা লাভ করেন।
ভগবান বিষ্ণুকে জগতের পালনকর্তা ও ভক্তদের রক্ষাকারী হিসেবে পূজা করা হয়। একাদশী তিথি শ্রীহরির আরাধনার জন্য বিশেষ বলে বিবেচিত। বিশ্বাস করা হয় যে এই দিনে ভগবান বিষ্ণুর ধ্যান করে পিতৃপুরুষদের নিমিত্ত কৃত ধর্মীয় কর্ম, তর্পণ, দান ও সেবার মাধ্যমে পুণ্য লাভ হয়। এই পবিত্র উপলক্ষ আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে পূর্বপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা কেবল স্মরণে সীমাবদ্ধ নয়, তাদের নামে কৃত সৎকর্ম ও পরোপকারের মাধ্যমেও প্রকাশ করা যায়।
পিতৃপক্ষের সময় দান, পুণ্য ও পরোপকারের জন্য বিশেষ বলে বিবেচিত। অভাবীদের সাহায্য করা, ক্ষুধার্তকে অন্নদান করা এবং অসহায়ের জীবনে অবলম্বন হওয়া সনাতন সংস্কৃতিতে পুণ্যকারী সেবা বলে গণ্য।
গরুড় পুরাণে পিতৃপক্ষের বিশেষ সময়ে কৃত দান সম্পর্কে বলা হয়েছে—
দাতা চ লভতে স্বর্গং পূজকঃ সুখমশ্নুতে।
পিতৃণাং পিণ্ডদানেন সর্বং তরতি মানবঃ॥
অর্থাৎ পিতৃপুরুষদের নিমিত্ত দানকারী ব্যক্তি স্বর্গের অধিকারী হন এবং তিনি সংসারের সকল সংকট থেকে উত্তীর্ণ হন।
এই পবিত্র ইন্দিরা একাদশীতে নারায়ণ সেবা সংস্থান দ্বারা দীন-হীন, নিঃস্ব, অসহায় ও দিব্যাঙ্গ শিশুদের জন্য ভোজন সেবা করা হচ্ছে। এই একাদশীতে পিতৃপুরুষদের প্রতি নিজের শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতাকে সেবার সঙ্গে যুক্ত করুন এবং কোনো অভাবী শিশুর থালায় পুষ্টিকর ও মিষ্ট অন্ন পৌঁছে দিতে অংশগ্রহণ করুন।
এই ইন্দিরা একাদশীতে শ্রীহরিকে স্মরণ করুন, হরি নাম জপ করুন, পিতৃপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা অর্পণ করুন এবং দান-সেবার পুণ্য সংকল্প নিন। নিজের সৎকর্মের মাধ্যমে কোনো অভাবীর জীবনে আনন্দ আনুন এবং পিতৃপুরুষদের স্মৃতিকে সেবার পবিত্র ভাবে নমस्कार করুন।