ভারত প্রতি বছর ২৬শে জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবস পালন করে। এই দিনটি আমাদের ইতিহাসে একটি সোনালী অধ্যায়, যেদিন দেশটি সংবিধানের মাধ্যমে তার পরিচয়কে লালন করে একটি স্বাধীন, গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল। এই বছর আমরা ৭৬তম প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপন করছি, যা আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, সংগ্রাম এবং অর্জনসমূহকে স্মরণ করার একটি উপলক্ষ।
ভারতের সংবিধান ১৯৫০ সালের ২৬শে জানুয়ারি কার্যকর হয়েছিল। কিন্তু এই দিনটি বেছে নেওয়ার পেছনে একটি বিশেষ কারণ ছিল। ১৯৩০ সালের ২৬শে জানুয়ারি, ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ‘ পূর্ণা’ দিবসের একটি প্রস্তাব গ্রহণ করেছিল। লাহোর অধিবেশনে ” স্বরাজ ” স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সেই সময় এটি একটি স্বপ্ন ছিল যে ভারত ব্রিটিশদের পরাধীনতা থেকে মুক্ত হয়ে নিজের শাসন চালাবে। সংবিধান বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই স্বপ্ন সত্যি হয়েছিল। এই দিনটি কেবল একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার সূচনা ছিল না, বরং এটি ভারতের দীর্ঘ স্বাধীনতা যাত্রার সমাপ্তিরও প্রতীক ছিল।
ভারতের সংবিধান বিশ্বের বৃহত্তম লিখিত সংবিধান। এটি প্রস্তুত করতে ২ বছর, ১১ মাস এবং ১৮ দিন সময় লেগেছিল। সংবিধান আমাদের সমতা, স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের অধিকার দিয়েছে।
প্রজাতন্ত্র দিবসের ইতিহাস শুধু ১৯৫০ সালেই সীমাবদ্ধ নয়। এর ভিত্তি রয়েছে ঊনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীর স্বাধীনতা সংগ্রামে। মঙ্গল পান্ডে, রানি লক্ষ্মীবাঈ , চন্দ্রশেখর আজাদ, মহাত্মা গান্ধী, সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল, সুভাষচন্দ্র বসু, ভগত সিং এবং অগণিত স্বাধীনতা সংগ্রামী তাঁদের ত্যাগ ও সংগ্রামের মাধ্যমে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করেছিলেন, যেখানে ভারত তার স্বাধীনতাকে সত্যিকার অর্থে উপলব্ধি করতে পেরেছিল। তাঁদের আত্মত্যাগ আমাদের শিখিয়েছে যে প্রকৃত স্বাধীনতা কেবল রাজনৈতিক স্বাধীনতা নয়, বরং সমাজে সমতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাও বটে।
নারায়ণ সেবা সংস্থাটি তার কাজের মাধ্যমে সর্বদা সংবিধানের মূল্যবোধকে বাঁচিয়ে রেখেছে। এই প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য হলো সমাজের সবচেয়ে দুর্বল অংশ, বিশেষ করে দিব্যাঙ্গজন ও অভাবীদের ক্ষমতায়ন করা। এই প্রতিষ্ঠানটি গত চার দশক ধরে লক্ষ লক্ষ দিব্যাঙ্গজনকে বিনামূল্যে অস্ত্রোপচার , কৃত্রিম অঙ্গ এবং পুনর্বাসন পরিষেবা প্রদান করে আসছে।
সংবিধানের মূল চেতনা বলে যে, প্রত্যেক ব্যক্তির সমান সুযোগ ও অধিকার পাওয়া উচিত। নারায়ণ সেবা সংস্থাটি তার জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে এই চেতনাকে ধারণ করে। তা সে চিকিৎসা সহায়তা প্রদান হোক, দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হোক কিংবা অভাবীদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলা হোক। প্রতিষ্ঠানটি তার কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করেছে যে, সমাজে পরিবর্তন আনার জন্য সেবা ও নিষ্ঠাই হলো সঠিক মাধ্যম।
প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপনের পাশাপাশি আত্মসমীক্ষা ও আত্ম-উন্নয়নেরও একটি দিন। এই দিনটি আমাদের শেখায় যে, সংবিধান প্রদত্ত অধিকার ব্যবহার করার সময় আমাদের কর্তব্যগুলো কখনো ভোলা উচিত নয়। সমাজের দুর্বল অংশের সাহায্য করা, শিক্ষার প্রসার ঘটানো এবং সমতার নীতি গ্রহণ করা আমাদের কর্তব্যের অন্তর্ভুক্ত হওয়া উচিত। প্রজাতন্ত্র দিবস আমাদের এমনভাবে জীবনযাপন করতে অনুপ্রাণিত করে, যাতে আমরা অন্যের কল্যাণে অবদান রাখতে পারি।
৭৬তম প্রজাতন্ত্র দিবসে, আসুন আমরা সকলে এই প্রতিজ্ঞা করি যে, আমরা আমাদের সংবিধানের মূল্যবোধগুলোকে আমাদের জীবনের অংশ করে তুলব। আমরা সমাজে সাম্য, স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের বার্তা ছড়িয়ে দিতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাব। যেমন নারায়ণ সেবা। সংস্থান , আমরাও অভাবীদের সাহায্য করব এবং একটি উন্নততর ভারত গড়তে অবদান রাখব।
এই দিনটি শুধু আমাদের ইতিহাসকেই স্মরণ করিয়ে দেয় না, বরং এক উজ্জ্বলতর ও অধিকতর সমতাপূর্ণ ভবিষ্যতের দিকে আমাদের অনুপ্রাণিত করে।
জয় হিন্দ!