সনাতন ঐতিহ্যে, কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের একাদশ তিথিটি ‘রমা একাদশী’ নামে পরিচিত। দীপাবলির ঠিক আগে আসা এই পবিত্র একাদশী তিথিটি ভগবান বিষ্ণুর আরাধনা এবং দেবী লক্ষ্মীর আশীর্বাদ লাভের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, রমা একাদশীর দিন নিষ্ঠাভরে উপবাস পালন, ভগবান বিষ্ণুর পূজা, ‘হরি’ নাম জপ, দান-পুণ্য এবং নিঃস্বার্থ সেবামূলক কাজে যুক্ত থাকলে আধ্যাত্মিক পুণ্য অর্জিত হয়; যা জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধির পথকে আলোকিত করে তোলে।
ভগবান বিষ্ণু বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের পালনকর্তা এবং তাঁর ভক্তদের রক্ষাকর্তা হিসেবে পূজিত হন। একাদশী তিথিটি শ্রীহরি (ভগবান বিষ্ণু)-র আরাধনার জন্য অত্যন্ত পবিত্র বলে গণ্য। রমা একাদশীতে ভগবান বিষ্ণুর পাশাপাশি দেবী লক্ষ্মীকে স্মরণ ও পূজা করার রীতি রয়েছে। এই পবিত্র তিথি আমাদের ভক্তি, ধর্ম এবং নিষ্কাম সেবার পথে চলতে অনুপ্রাণিত করে। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, নিষ্ঠার সঙ্গে রমা একাদশীর ব্রত পালন, ভগবান বিষ্ণুর ধ্যান, ‘হরি’ নাম জপ এবং আর্ত-দুস্থদের সেবা করলে আধ্যাত্মিক পুণ্য লাভ হয়। এই দিনে করা সৎকর্ম মানুষের জীবনে ভক্তি ও সেবার মনোভাবকে আরও সুদৃঢ় করে তোলে।
সনাতন সংস্কৃতিতে দান ও সেবাকে মানবজীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কর্ম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অভাবী মানুষকে সাহায্য করা, ক্ষুধার্তকে অন্ন দেওয়া এবং অসহায়দের পাশে দাঁড়ানোই হলো প্রকৃত মানবতা। রমা একাদশীর এই পবিত্র তিথি আমাদের ভক্তির সঙ্গে সেবাকার্য যুক্ত করতে উদ্বুদ্ধ করে, যা অভাবী ও অসহায় মানুষের জীবনে আনন্দ বয়ে আনে।
এই পবিত্র রমা একাদশীতে, ‘নারায়ণ সেবা সংস্থান’ (Narayan Seva Sansthan)-এর পক্ষ থেকে অভাবী, দরিদ্র, অসহায় এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য অন্নদান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এই পবিত্র একাদশী সেবা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শ্রীহরির চরণে আপনার ভক্তি নিবেদন করুন এবং অভাবী শিশুর জন্য পুষ্টিকর ও সুস্বাদু আহারের ব্যবস্থায় অবদান রাখুন।
রমা একাদশীতে ভগবান বিষ্ণুর ধ্যান করুন, হরিনাম জপ করুন, দেবী লক্ষ্মীর কথা স্মরণ করুন এবং দান ও সেবার পবিত্র ব্রত গ্রহণ করুন। আপনার সৎকর্মের মাধ্যমে কোনো অভাবী মানুষের মুখে হাসি ফোটান এবং নিঃস্বার্থ সেবার মধ্য দিয়ে ভগবানের চরণে আপনার ভক্তি অর্পণ করুন।