পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর জন্মদিন উপলক্ষে প্রতি বছর ১৪ই নভেম্বর শিশু দিবস পালন করা হয় । পণ্ডিত নেহরু শিশুদের প্রতি তাঁর বিশেষ স্নেহ ও ভালোবাসার জন্য পরিচিত ছিলেন। তাঁকে ‘ চাচা নেহরু’ বলে ডাকা হতো। তিনি মনে করতেন যে, শিশুরাই দেশের ভবিষ্যৎ এবং কেবল তাদের বিকাশের মাধ্যমেই একটি শক্তিশালী জাতি গড়ে উঠবে।
শিশু দিবস শিশুদের শিক্ষা, সুরক্ষা এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য প্রচেষ্টাকে অনুপ্রাণিত করে। নেহেরু জি বিশ্বাস করতেন যে, শিশুরা যদি সঠিক নির্দেশনা, যথাযথ শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশ পায়, তবে তারা সমাজ ও দেশের জন্য অমূল্য অবদান রাখতে পারে।
শিশু দিবস উপলক্ষে স্কুল, প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিশেষ করে শিশুদের সৃজনশীলতাকে উৎসাহিত করার জন্য এই দিনে প্রতিযোগিতা, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং অন্যান্য কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়। এটি শিশুদের জন্য তাদের দক্ষতা প্রদর্শন এবং আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর একটি সুযোগ।
শিশু দিবস আমাদের শিশুদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে। প্রত্যেক শিশুর শিক্ষা, সমতা এবং নিরাপদ জীবনযাপনের অধিকার রয়েছে। কিন্তু আজও বহু শিশু দারিদ্র্য, শিশুশ্রম এবং শিক্ষা থেকে বঞ্চিত। শিশু দিবসে এই বিষয়গুলো বিবেচনা করা হয় এবং শিশুদের অধিকারের প্রতি সমাজকে সংবেদনশীল করার প্রচেষ্টা চালানো হয়।
শিশু কল্যাণ ও শিশু অধিকার নিশ্চিত করার জন্য সরকার এবং বেসরকারি সংস্থাগুলো নানা প্রকল্প ও নীতিমালা চালু রেখেছে। কিন্তু এগুলোর সফল বাস্তবায়ন তখনই সম্ভব, যখন সমাজের প্রতিটি মানুষ নিজ নিজ দায়িত্ব উপলব্ধি করে শিশু অধিকার রক্ষায় সহযোগিতা করবে।
শিশু দিবসের প্রধান উদ্দেশ্য হলো শিশুদের তাদের স্বপ্ন পূরণে অনুপ্রাণিত করা। একটি শিশুর শিক্ষা ও ব্যক্তিত্ব বিকাশে পরিবার, সমাজ এবং শিক্ষকেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পণ্ডিত নেহেরু বিশ্বাস করতেন যে, শিশুদের প্রতি স্নেহপূর্ণ আচরণ করা উচিত এবং তাদের শিক্ষায় সৃজনশীলতা ও বিনোদন অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।
শিশুরা যদি উৎসাহ ও একটি ইতিবাচক পরিবেশ পায়, তবে তারা জীবনের যেকোনো প্রতিকূলতার মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়। আজকের শিশুরাই হতে পারে আগামী দিনের নেতা, বিজ্ঞানী, চিকিৎসক এবং শিল্পী। শিশু দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, শিশুদের সঠিক নির্দেশনা ও সুযোগ প্রদান করাই আমাদের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
শিশু দিবস উপলক্ষে স্কুল ও প্রতিষ্ঠানে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হোক। শিশুদের জন্য বিশেষ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা উচিত। স্কুলে শিশুদের জন্য একটি শিশু মেলার আয়োজন করা উচিত। শিক্ষক ও অভিভাবকদের উচিত শিশুদের শিল্প ও প্রতিভার প্রশংসা করা এবং পুরস্কার বিতরণ করা।
এই দিনে শিশুদের সামাজিক দায়িত্ববোধ ও নৈতিক মূল্যবোধের গুরুত্বও শেখানো হয়। তাই, এই দিনে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা উচিত, যাতে তারাও অনুভব করতে পারে যে তারাও সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বর্তমান সময়ে শিশু দিবসের প্রাসঙ্গিকতা আরও বেড়েছে। এই ডিজিটাল যুগে শিশুদের শৈশব প্রযুক্তিগত যন্ত্রপাতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে। খেলাধুলা ও সৃজনশীলতার জন্য সময় কমে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে, শিশু দিবস হলো তাদের শৈশবের আনন্দ ফিরিয়ে আনার একটি দিন।
এই দিনটি আমাদের ভাবতে বাধ্য করে যে, শিশুদের জন্য কীভাবে একটি সুস্থ, সুখী ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা যায়। শিশুদের বিকাশের জন্য আমাদের এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে হবে যেখানে তারা তাদের স্বপ্ন পূরণ করতে পারে।
শিশু দিবস হলো শিশুদের জীবনে আনন্দ ও অনুপ্রেরণা বয়ে আনার একটি দিন। এটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, শিশুদের অধিকার রক্ষা করা এবং তাদের সার্বিক বিকাশের জন্য সচেষ্ট হওয়া আমাদেরই দায়িত্ব। পণ্ডিত নেহরুর এই ভাবনা আজও আমাদের অনুপ্রাণিত করে যে, শিশুরা যদি সঠিক নির্দেশনা ও সুযোগ পায়, তবে তারা একটি উন্নত সমাজ এবং একটি শক্তিশালী জাতি গঠন করতে পারে।