বিশ্বব্যাংকের ২০২১ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের জনসংখ্যার ৯.২ শতাংশ দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করে। দারিদ্র্যের বিষয়টি বিশ্বের কাছে নতুন কিছু নয়, কারণ বিশ্বের প্রায় সব দেশই এই সমস্যার সঙ্গে লড়াই করছে।
২০১৫ সালে জাতিসংঘের ১৯৩টি দেশ এজেন্ডা ২০৩০-এ স্বাক্ষর করে, যার লক্ষ্য হলো দেশ থেকে চরম দারিদ্র্য দূর করা এবং বৈষম্য হ্রাস করা।
বিভিন্ন দেশ তাদের সরকারি ও বেসরকারি দারিদ্র্য নির্মূলের লক্ষ্য অর্জনের জন্য বিভিন্ন সংস্থা একাধিক প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এছাড়া, এজেন্ডা ২০৩০ অর্জনে সমর্থন জানাতে বহু সাধারণ মানুষও এগিয়ে এসেছেন।
অভাবীদের কীভাবে সাহায্য করা যায়?
ব্যক্তিগতভাবে অভাবীদের সাহায্য করার বিভিন্ন উপায় রয়েছে। সেগুলোর মধ্যে কয়েকটি হলো-
সংস্থার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ধরনের বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হতে পারে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দাতা এবং দাতব্য সংস্থাগুলোর একে অপরের সাথে সহজে সংযোগ স্থাপন করতে পারা।
সুতরাং, যখন আমরা অনলাইন অনুদান ব্যবহারকারী দাতাদের বৃদ্ধির দিকে তাকাই , তখন দেখা যায় যে ভারত এমন একটি দেশ যেখানে এই পদ্ধতির ব্যবহারে দ্রুত বৃদ্ধি পরিলক্ষিত হয়।
অনলাইনে অনুদান কীভাবে করা হয়?
বর্তমানে ভারতে লক্ষ লক্ষ তহবিল সংগ্রহকারী ওয়েবসাইট এবং এনজিও ওয়েবসাইট রয়েছে , যেগুলো অনলাইনে অনুদান গ্রহণ করে । এমনকি বেশ কিছু সরকারি প্রকল্প ও তহবিলেরও নিজস্ব ওয়েবসাইট আছে, যেখানে মানুষ অনলাইনে অনুদান দিতে পারে ।
এছাড়াও, এই দাতব্য সংস্থাগুলো ফেসবুকের মতো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মও ব্যবহার করে, যেখান থেকে অনলাইনে অনুদান দেওয়া ও প্রচার করা যায়।
সমাজসেবামূলক কাজে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহার
সোশ্যাল মিডিয়ার মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষের সাথে সংযোগ স্থাপন করা। তাই, অনেক অলাভজনক ও অন্যান্য দাতব্য সংস্থা লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে পৌঁছাতে এবং তাদের উদ্দেশ্য তুলে ধরতে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার ইত্যাদির মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে । অন্য কথায়, এই সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলো তাদের সংস্থাগুলোর প্রচার, বিপণন, জনসংযোগ বজায় রাখা এবং তহবিল সংগ্রহের একটি দুর্দান্ত উপায় ।
একজন ব্যক্তি কীভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে অভাবীদের সাহায্য করতে পারেন?
একজন দাতা হিসেবে, আপনি যে দাতব্য ট্রাস্ট বা সংস্থায় দান করতে চান, তা খুঁজে বের করার জন্য এই প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহার করতে পারেন। যেহেতু এই প্ল্যাটফর্মগুলো দাতা এবং সংস্থা উভয় পক্ষের যোগাযোগের ক্ষেত্রে সাহায্য করে, তাই একজন দাতার পক্ষে তার পছন্দের দাতব্য সংস্থার সাথে যোগাযোগ করা খুব সহজ হতে পারে ।
এছাড়াও, স্বেচ্ছাসেবায় আগ্রহী কোনো ব্যক্তি এই সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোতেও দেখতে পারেন যে কোনো সংস্থা তাদের কাজের জন্য স্বেচ্ছাসেবক গ্রহণ করে কিনা।
এছাড়াও, দাতারা এই প্ল্যাটফর্মগুলিতে তহবিল সংগ্রহের সাইট খুঁজতে পারেন অথবা তাদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে সচেতনতামূলক কর্মসূচি ও প্রচারাভিযান চালাতে পারেন।
দাতব্য কাজে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রভাব
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো জনসাধারণের মধ্যে দাতব্য সংস্থাগুলোর প্রভাবকে নিঃসন্দেহে বাড়িয়ে দিয়েছে। এই সাইট ও প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহার করে সংস্থাগুলোর পক্ষে তাদের গল্প, কাহিনী তুলে ধরা এবং তাদের মহৎ কাজের জন্য জনসাধারণের কাছে অনুদান চাওয়া খুব সহজ হয়ে গেছে।
গবেষণায় দেখা গেছে যে, বিশ্বব্যাপী ১৮% দাতা ফেসবুকের তহবিল সংগ্রহের মাধ্যম ব্যবহার করে দান করেছেন এবং তাদের মধ্যে ৮৮% এই মাধ্যমগুলোর মাধ্যমেই পুনরায় দান করতে আগ্রহী। একইভাবে, ৩০% অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ ও সচেতনতা বৃদ্ধি করে থাকে ।
এই পরিসংখ্যানগুলো দাতাদের উপর সামাজিক মাধ্যমের শক্তিশালী প্রভাব স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে। সুতরাং, এটা বলা সঠিক হবে যে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে অভাবীদের সাহায্য করার জন্য অবশ্যই অনেক কিছু করা যায়!