জাতীয় যুব দিবস পালিত হয়। এই দিনটি স্বামী বিবেকানন্দের জন্মবার্ষিকী স্মরণে উদযাপন করা হয়। তিনি ছিলেন একজন মহান পণ্ডিত এবং অগণিত যুবকের অনুপ্রেরণার উৎস, যিনি তাঁর চিন্তাভাবনা, আদর্শ এবং অনুপ্রেরণামূলক ব্যক্তিত্বের জন্য পরিচিত। এই দিনটি যুবকদের অনুপ্রাণিত করার এবং তাদের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।
স্বামী বিবেকানন্দ সর্বদা যুবকদের শক্তির স্বীকৃতি দিতেন এবং তাদের জীবনের উদ্দেশ্য খুঁজে পেতে অনুপ্রাণিত করতেন। তিনি বলেছিলেন, “ওঠো, জাগো এবং লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত থামবে না।” তাঁর এই কথাগুলো আজও প্রতিটি যুবকের জীবনকে নতুন শক্তি ও সাহসে পূর্ণ করে।
বিবেকানন্দ বিশ্বাস করতেন যে, দেশকে পরিবর্তন করার ক্ষমতা যুবকদের হাতেই রয়েছে। তিনি মনে করতেন, যুবকেরা যদি নিজেদের ভেতরের শক্তিকে চিনতে পারে, তবে তারা পৃথিবীর যেকোনো কাজ করতে সক্ষম হবে।
ভারত একটি নবীন দেশ, যেখানে জনসংখ্যার ৬৫ শতাংশেরও বেশি মানুষের বয়স ৩৫ বছরের নিচে। এই যুবশক্তিই দেশের উন্নয়নের ভিত্তি। যুবকেরা যদি তাদের চিন্তা ও কর্মকে সঠিক পথে চালিত করতে পারে, তবে ভারত সর্বক্ষেত্রে উন্নতি করতে সক্ষম।
জাতীয় যুব দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, প্রত্যেক যুবকের মধ্যেই অপার সম্ভাবনা সুপ্ত রয়েছে। আজকের যুবসমাজ শুধু তাদের নিজেদের ভবিষ্যতের জন্যই নয়, বরং দেশ ও সমাজের জন্যও দায়ী।
আপনার লক্ষ্য নির্ধারণ করুন : জীবনে একটি সুস্পষ্ট উদ্দেশ্য থাকা জরুরি। লক্ষ্য অর্জনের জন্য কঠোর পরিশ্রম ও ধৈর্য ধারণ করুন।
স্বাস্থ্যের যত্ন নিন : শারীরিক ও মানসিক উভয় স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়াই সাফল্যের চাবিকাঠি।
নতুন দক্ষতা অর্জন করুন : আপনার জ্ঞান ও দক্ষতা বাড়াতে সর্বদা প্রস্তুত থাকুন। এটি আপনাকে শুধু ব্যক্তিগত জীবনেই নয়, পেশাগত জীবনেও এগিয়ে নিয়ে যাবে।
সমাজসেবা : অন্যের সাহায্য আত্মতৃপ্তি দেয়। আপনার চারপাশের মানুষের জীবনমান উন্নত করার চেষ্টা করুন।
জাতীয় যুব দিবস হলো তরুণদের জন্য নতুন শুরুর একটি দিন। এই দিনে তরুণদের উচিত নিজেদের ভেতরের শক্তিকে উপলব্ধি করা এবং নিজেদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের কৌশল তৈরি করে সামনে এগিয়ে যাওয়া।
দেশের সকল যুবক-যুবতীর উচিত স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শে এই দিনটি উদযাপন করা এবং আমাদের দেশকে আরও গৌরবময় করে তোলার জন্য নিরন্তর কাজ করে যাওয়ার শপথ গ্রহণ করা।
স্বামী বিবেকানন্দ ছিলেন একজন মহান সাধক, চিন্তাবিদ এবং অনুপ্রেরণাদায়ক ব্যক্তিত্ব। তিনি ১৮৬৩ সালের ১২ই জানুয়ারি কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর আসল নাম ছিল নরেন্দ্রনাথ। দত্ত । শৈশব থেকেই তিনি আধ্যাত্মিকতা ও জ্ঞানের প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন। রামকৃষ্ণ পরমহংসের শিষ্য হিসেবে তিনি ভারতীয় সংস্কৃতি ও বেদান্ত গভীরভাবে অধ্যয়ন করেন।
১৮৯৩ সালে শিকাগোতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব ধর্ম সম্মেলনে তাঁর চিত্তাকর্ষক ভাষণ বিশ্বমঞ্চে ভারতকে গর্বিত করেছিল। তিনি যুবকদের আত্মনির্ভরশীলতা, দেশপ্রেম এবং ইতিবাচক চিন্তাভাবনার বার্তা দিয়েছিলেন।
স্বামী বিবেকানন্দ ১৮৯৭ সালে রামকৃষ্ণ মিশন প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ১৯০২ সালের ৪ঠা জুলাই ৩৯ বছর বয়সে দেহত্যাগ করেন।
স্বামী বিবেকানন্দের মূল্যবান কথা
প্রথমে প্রতিটি ভালো জিনিস নিয়ে উপহাস করা হয়, তারপর বিরোধিতা করা হয় এবং সবশেষে তা গৃহীত হয়।
সত্যকে হাজারোভাবে বলা যেতে পারে, কিন্তু তা সত্যই থেকে যাবে।
যতক্ষণ না তুমি নিজের উপর বিশ্বাস রাখো, ততক্ষণ তুমি ঈশ্বরের উপর বিশ্বাস রাখতে পারবে না।
হাজারো প্রতিকূলতার পরেই উত্তম চরিত্র গঠিত হয়।
নিজেকে দুর্বল ভাবাটাই সবচেয়ে বড় পাপ।
আমরা যা বপন করি, তাই কাটি। আমরাই আমাদের ভাগ্যের নির্মাতা।
কেবল তাদেরই জীবন আছে, যারা অন্যের জন্য বাঁচে। বাকিদের বেঁচে থাকার চেয়ে মরে যাওয়াই ভালো।