২০২১ সালের ওয়ার্ল্ড গিভিং ইনডেক্স রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে উদার দেশগুলোর মধ্যে ভারত ১৪তম স্থান অর্জন করেছে। ভারতে ৩০ লক্ষেরও বেশি দাতব্য সংস্থা রয়েছে , যেগুলো সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষকে সাহায্য করার জন্য কাজ করে।
বিগত বছরগুলোতে দেশে দাতার সংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আজকাল কাছাকাছি কোনো দাতব্য সংস্থা খুঁজে পাওয়া খুবই সহজ। দান করার জন্য উপযুক্ত সংস্থা খুঁজে পেতে ‘ আমার কাছাকাছি খাদ্য দান’ , ‘আমার কাছাকাছি দাতব্য সংস্থা’, ‘আমার কাছাকাছি শিশু অনাথ আশ্রম’ ইত্যাদির মতো শিরোনাম দিয়ে গুগলে অনুসন্ধান করলেই চলে।
এর কারণ হলো, বর্তমানে ভারতে বিভিন্ন ধরনের দাতব্য সংস্থা রয়েছে, যেগুলো নানা জনহিতকর উদ্দেশ্যে কাজ করে।
দাতব্য সংস্থার প্রকারভেদ
একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান সরকারি বা বেসরকারি হতে পারে।
জনহিতকর দাতব্য প্রতিষ্ঠান- এই ধরনের দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো নির্দিষ্ট সুবিধাভোগী থাকে না এবং এগুলো সমাজের কোনো বিশেষ অংশ বা গোষ্ঠীর কল্যাণের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়। এই সংস্থাগুলোর ব্যবস্থাপনা একটি ট্রাস্টি বোর্ড দ্বারা পরিচালিত হয়।
বেসরকারি ফাউন্ডেশন- এই সংস্থাগুলিতে সাধারণত একজন বা কয়েকজন সুবিধাভোগী থাকে। এই সংস্থাগুলির ব্যবস্থাপনা প্রায়শই একজন ব্যবস্থাপনা ট্রাস্টি বা কয়েকজন নিযুক্ত ট্রাস্টি দ্বারা পরিচালিত হয়।
বিভিন্ন দাতব্য উদ্দেশ্য রয়েছে, যেগুলোর জন্য একজন দাতা সম্পদ বা অর্থ দান করতে পারেন । এর ভিত্তিতে বিভিন্ন ধরনের দাতব্য প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হয়। সেগুলো হলো-
স্বাস্থ্য দাতব্য সংস্থা
বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বাধিক জনবহুল দেশ হওয়ায় জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে ভারতের নিজস্ব কিছু সমস্যা রয়েছে। এই সমস্যাগুলি সাধারণত স্বাস্থ্য ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতার অভাব, অপুষ্টি, চিকিৎসা সুবিধার অভাব ইত্যাদির সাথে সম্পর্কিত। তাই, দেশে এমন অনেক স্বাস্থ্য দাতব্য সংস্থা রয়েছে যারা এই সমস্যাগুলির উপর মনোযোগ দেয় এবং সেগুলি সমাধানের জন্য কাজ করে।
শিক্ষা দাতব্য সংস্থা
ভারতে শিক্ষার অভাব অন্যতম প্রধান একটি সমস্যা। ২০২২ সালের জাতীয় সমীক্ষা প্রতিবেদন অনুসারে, ভারতের সাক্ষরতার হার ৭৭.৭ শতাংশ, যা থেকে বোঝা যায় যে প্রতি চারজন ভারতীয়ের মধ্যে একজন শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত।
তাই, দেশে বিভিন্ন শিক্ষা দাতব্য সংস্থা রয়েছে যারা সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের শিক্ষা প্রদানে কাজ করে। নারায়ণ সেবা সংস্থানটি তাদের মধ্যে অন্যতম। এই সংস্থাটি দরিদ্র শিশু এবং দিব্যাঙ্গদের বিনামূল্যে মানসম্মত শিক্ষা প্রদানে সক্রিয়ভাবে চেষ্টা করে আসছে । তাই, কোনো ব্যক্তি এই ধরনের দাতব্য প্রতিষ্ঠানে অনুদান দিয়ে শিক্ষার জন্য সাহায্য করতে পারেন।
পশু দাতব্য সংস্থা
প্রাণী দাতব্য সংস্থাগুলোর প্রধান লক্ষ্য হলো প্রাণীদের (বিশেষ করে বিপন্ন প্রাণীদের) সুরক্ষা দেওয়া এবং তাদের কল্যাণে কাজ করা। তারা বিভিন্ন প্রাণী আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন, তাদের চিকিৎসায় সহায়তা, প্রাণী উদ্ধার ইত্যাদির মাধ্যমে এই কাজটি করতে পারে।
পরিবেশগত দাতব্য সংস্থা
ভারত জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ হলেও, এটি বিশ্বের অন্যতম দূষিত দেশও বটে। জলের অভাব, বন উজাড়, জলদূষণ ইত্যাদি দেশটির কয়েকটি প্রধান সমস্যা। এই ধরনের পরিবেশগত অবক্ষয় রোধ করার জন্য ভারতে বিভিন্ন পরিবেশবাদী দাতব্য সংস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
ধর্মীয় দাতব্য সংস্থা
ভারত এমন একটি দেশ যেখানে ধর্মের ব্যাপক বৈচিত্র্য দেখা যায় এবং প্রায় সকলেই দান ও সাহায্যের ধারণার ওপর আলোকপাত করে।
হিন্দুধর্মে ‘দান’ হোক বা ইসলামে ‘যাকাত’, প্রতি বছর ধর্মীয় সংগঠনগুলোকে বিপুল পরিমাণ অর্থ দান করা হয়।
শিল্প ও সংস্কৃতি দাতব্য সংস্থা
ভারত তার সমৃদ্ধ ইতিহাস, শিল্পকলা ও সংস্কৃতির জন্য পরিচিত এবং এগুলোকে সংরক্ষণ করার লক্ষ্যে দেশটিতে বেশ কিছু শিল্প ও সংস্কৃতি বিষয়ক দাতব্য প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা
আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা হলো সেইসব এনজিও, যেগুলো একটি দেশে প্রতিষ্ঠিত হয়ে অন্যান্য দেশের কল্যাণে কাজ করে।
একটি দাতব্য সংস্থার জন্য কেবল এক ধরনের দাতব্য কাজ করা আবশ্যক নয়, কারণ তাদের দাতব্য উদ্দেশ্য বিভিন্ন ধরনের কাজের সাথে মিলে যেতে পারে।
উদাহরণস্বরূপ, নারায়ণ সেবা সংস্থান এটি ভারতের অন্যতম স্বনামধন্য একটি এনজিও, যা শুধু দিব্যাঙ্গ ও পোলিও রোগীদের চিকিৎসাই প্রদান করে না, বরং সুবিধাবঞ্চিত ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের মানসম্মত শিক্ষাও দিয়ে থাকে। এর পাশাপাশি, তারা দিব্যাঙ্গ এবং অন্যান্য সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে তাদের ক্ষমতায়নের জন্যও কাজ করে। এই সংস্থা এবং তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে আরও জানতে , আপনি এখানে ওয়েবসাইটটি দেখতে পারেন !