31 October 2022

দারিদ্র্য দূরীকরণে আমি আমার দেশকে কীভাবে অবদান রাখতে পারি?

Start Chat

সম্প্রতি, ওয়ার্ল্ড পভার্টি ক্লক (২০২২)-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, ভারতে ৮৩ মিলিয়ন মানুষ চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করছে, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬ শতাংশ। এই পরিসংখ্যান নিয়ে ভারত নাইজেরিয়াকে ছাড়িয়ে গেছে। কোভিড -১৯ পরিস্থিতির কারণে দেশগুলোর ওপর সাম্প্রতিক আঘাতকে বিবেচনায় রেখে এই তথ্যটি লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।

২০১৫ সালে এজেন্ডা ২০৩০ স্বাক্ষরের মাধ্যমে ভারত দারিদ্র্য নির্মূলে তার সমর্থন প্রদর্শন করে এবং বিগত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প, তহবিল ও কর্মসূচির মাধ্যমে এ বিষয়ে প্রশংসনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

সরকার ছাড়াও অনেক বেসরকারি সংস্থাও সমাজের দুর্বল অংশের উন্নয়নে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।

তবে, জনগণের সমর্থন ছাড়া ২০৩০ সালের মধ্যে ভারত থেকে দারিদ্র্য দূরীকরণের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নাও হতে পারে। তাই, ব্যক্তি হিসেবে আমরা সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য সামান্য কিছু অবদান রাখার চেষ্টা করতে পারি।

দারিদ্র্য দূরীকরণে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখার কয়েকটি উপায় নিচে দেওয়া হলো –

এনজিও এবং তহবিলে অর্থ অনুদান

অর্থ অনুদান সমাজের দুর্বল অংশকে সাহায্য করার অন্যতম একটি প্রচলিত উপায়। ভারতে লক্ষ লক্ষ দাতা ধর্মীয়, রাজনৈতিক, দাতব্য বা তহবিল ইত্যাদির মতো বিভিন্ন উদ্দেশ্যে অর্থ দান করেন।

তবে, এগুলোর মধ্যে, দাতব্য ট্রাস্ট এবং এনজিওতে দান করা শুধুমাত্র কাউকে সাহায্য করার ক্ষেত্রে আপনার অবদানকেই চিহ্নিত করে না, বরং এটি আপনাকে ধারা ৮০জি-এর অধীনে কর সুবিধাও প্রদান করতে পারে, যদি আপনি কোনো ৮০জি সনদপ্রাপ্ত ট্রাস্ট বা তহবিলে দান করে থাকেন।

সুতরাং, আপনি আপনার ইচ্ছামত যেকোনো পরিমাণ অর্থ দান করে নারী ক্ষমতায়নকারী এনজিও, দরিদ্র শিশুদের শিক্ষা বিষয়ক এনজিও অথবা প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিলের মতো বিভিন্ন তহবিলকে সহায়তা করতে পারেন।

আজকাল প্রযুক্তির কারণে অর্থ অনুদানের পদ্ধতি অনেক সহজ হয়ে গেছে। ভারতে এমন অনেক এনজিওর ওয়েবসাইট আছে যারা অনলাইনে তহবিল গ্রহণ করে। নারায়ণ সেবা সংগঠন এটি এর একটি উদাহরণ।

বিশেষভাবে সক্ষম এবং সমাজের অন্যান্য দুর্বল অংশের উন্নয়নে তাদের মহৎ কাজের জন্য এই সংস্থাটি বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত । তারা বিভিন্ন ধরনের অর্ঘ্য ও সেবা প্রদান করে, যেখানে একজন দাতা তার ইচ্ছামত যেকোনো পরিমাণ অর্থ দান করতে পারেন। তাদের কিছু অর্ঘ্যের মধ্যে রয়েছে সুবিধাবঞ্চিত ও বিশেষভাবে সক্ষমদের গণবিবাহ , পোলিও রোগীদের চিকিৎসা, দিব্যাঙ্গদের জন্য সংশোধনমূলক অস্ত্রোপচার , সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা ইত্যাদি।

সংস্থাটি ৮০জি ধারার অধীনে একটি দাতব্য ট্রাস্ট হিসাবেও নিবন্ধিত, যা তাদের দাতাদের কিছু কর সুবিধা পেতে সাহায্য করতে পারে। সংস্থাটি এবং তাদের পরিষেবা সম্পর্কে আরও জানতে , আপনি এখানে ক্লিক করতে পারেন!

বস্তুগত অনুদান এবং সংগ্রহ অভিযান

গরিবদের সাহায্য করার জন্য শুধু টাকাই দান করার বিষয় নয়। খেলনা, পোশাক, বই এবং এই জাতীয় অন্যান্য জিনিসপত্র দান করলেও তা তাদের অনেক সাহায্য করতে পারে।

আপনি আপনার স্কুল, কলেজ বা অন্য যেকোনো জায়গায় সংগ্রহ অভিযানের আয়োজন করে মানুষের কাছ থেকে সম্পদ সংগ্রহ করতে পারেন, যা আপনি ব্যক্তিগতভাবে অভাবীদের হাতে তুলে দিতে পারেন অথবা দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দান করতে পারেন।

স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ

আপনি যদি ব্যক্তিগতভাবে দরিদ্রদের সাহায্য করার অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চান, তবে স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ আপনার জন্য একটি ভালো বিকল্প হতে পারে। কোনো এনজিওতে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যোগ দিয়ে আপনি শিক্ষাদান, অভাবীদের মধ্যে সামগ্রী বিতরণ ইত্যাদির মতো কাজ পেতে পারেন, যা আপনাকে কাউকে সাহায্য করার অপার তৃপ্তি দেবে।

তহবিল সংগ্রহের অনুষ্ঠান

আজকাল ভারতে তহবিল সংগ্রহের অনুষ্ঠান, বিশেষ করে ক্রাউডফান্ডিং, ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করছে। তহবিল সংগ্রহের জন্য অংশগ্রহণের উপযোগী অনেক প্ল্যাটফর্ম ও অনুষ্ঠান রয়েছে। আপনার বন্ধু ও পরিবারের সাথে, প্রত্যেকে অল্প অল্প করে অবদান রাখলেও, আপনারা দলবদ্ধভাবে সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য একটি বিশাল পরিমাণ অর্থ দান করতে পারেন।

সুবিধাবঞ্চিতদের শিক্ষাদান বা গৃহশিক্ষকতা

ভারতে প্রতি চারজন ভারতীয়ের মধ্যে একজন প্রাথমিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত। দেশ সরকার তাদের বিদ্যালয়, বিভিন্ন কর্মসূচি ও প্রকল্পের মাধ্যমে দরিদ্রদের শিক্ষা লাভে সহায়তা করার চেষ্টা করেছে, তবুও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের অর্ধেকই হয় পড়াশোনা ছেড়ে দেয় অথবা পাঠ্যক্রমের সাথে তাল মেলাতে পারে না।

সুতরাং, এই মানুষদের সাহায্য করার জন্য, জ্ঞানই হতে পারে আপনার দেওয়া সর্বশ্রেষ্ঠ দান। আপনি আপনার অবসর সময়ে এই সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের পড়ানোর উদ্যোগ নিতে পারেন। এছাড়া আপনি এই শিশুদের পড়াশোনা ও বিভিন্ন সংশয় নিরসনে সাহায্য করার প্রস্তাবও দিতে পারেন।

X
Amount = INR