যোগিনী একাদশী
সনাতন ধর্মে একাদশী তিথির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে এবং এর মধ্যে যোগিনী একাদশীকে বিশেষভাবে পুণ্যদায়ক ও কল্যাণকর মনে করা হয়। এই একাদশী আষাঢ় মাসের কৃষ্ণ পক্ষের একাদশী তিথিতে পালিত হয়। ‘যোগিনী‘ শব্দের অর্থ হলো—যিনি সাধককে পরম যোগের পথে নিয়ে যান। এই ব্রত বিশেষভাবে পাপ মোচন ও মোক্ষ লাভের পথ সুগম করে।
যোগিনী একাদশীর পৌরাণিক প্রসঙ্গ ও গুরুত্ব
ধার্মিক গ্রন্থ অনুসারে, যে ব্যক্তি যোগিনী একাদশীর ব্রত ভক্তিসহকারে পালন করে, সে জন্মজন্মান্তরের পাপ থেকে মুক্তি পায় এবং পরমাত্মার কৃপা লাভ করে। এই ব্রত রোগ, দুঃখ, দারিদ্র্য এবং পাপ থেকে মুক্তি দেয়।
পদ্ম পুরাণে একটি কাহিনী আছে যেখানে বলা হয়েছে যে অলকাপুরীর গন্ধর্ব চিত্রসেনের সেবক হেমমালি কর্তব্যে অবহেলা করার কারণে কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত হয়েছিল। সে মহর্ষি মর্কণ্ডেয়ের আশ্রয় গ্রহণ করে এবং তাঁর নির্দেশ অনুযায়ী যোগিনী একাদশীর ব্রত পালনের মাধ্যমে তার সমস্ত পাপ ধ্বংস হয় এবং সে তার পূর্বের রূপ ও ঐশ্বর্য ফিরে পায়।
দান ও সেবার গুরুত্ব
যোগিনী একাদশীর দিন শুধু উপবাস ও ব্রতের নয়, বরং সেবা ও দানের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই দিনে করা পুণ্য কর্ম হাজারগুণ ফল দেয়। শাস্ত্রেও বলা হয়েছে—
যজ্ঞদানতপঃকর্ম ন ত্যাজ্যং কার্যমেব তৎ।
যজ্ঞো দানং তপশ্চৈব পাবনানি মনীষিণাম॥
অর্থাৎ, যজ্ঞ, দান ও তপস্যা—এই তিনটি কর্ম কখনোই ত্যাগ করা উচিত নয়। এগুলো মহৎ ব্যক্তিদের পবিত্র করে।
যোগিনী একাদশীতে দান ও সেবার পুণ্য
যোগিনী একাদশীতে দরিদ্র, অসহায়, প্রতিবন্ধী এবং দীন-হীন মানুষদের অন্ন, বস্ত্র, ওষুধ এবং আহার দান করলে অশেষ পুণ্য লাভ হয়। নারায়ণ সেবা সংস্থার প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য আজীবন (বছরে একদিন) আহারের সেবা প্রকল্পে অংশ নিন এবং এই পবিত্র তিথিতে শ্রেষ্ঠ পুণ্য লাভ করুন।
আপনার দানের মাধ্যমে ৫০ জন দরিদ্র, অসহায় এবং প্রতিবন্ধী মানুষ বছরে একদিন আজীবন আহার পাবে।