সনাতন ধর্মে একাদশী তিথির বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে এবং শ্রাবণ পুত্রদা একাদশী সেই একাদশীদের মধ্যে একটি, যা বিশেষভাবে সন্তানের সুখ, সৌভাগ্য এবং মোক্ষ প্রদানকারী বলে বিবেচিত হয়। শ্রাবণ মাসের শুক্লপক্ষের একাদশী তিথিতে এই একাদশী পালিত হয়। এই দিনে উপবাস পালন করলে সন্তান লাভ, সন্তানের সুখ এবং জীবনের পাপ থেকে মুক্তির পথ সুগম হয়।
শ্রাবণ পুত্রদা একাদশীর পৌরাণিক প্রেক্ষাপট এবং গুরুত্ব
পদ্ম পুরাণ এবং শ্রী বিষ্ণু পুরাণে বর্ণিত কাহিনী অনুসারে, মাহিষ্মতী শহরের রাজা মহীজিতের কোনও সন্তান ছিল না। তিনি মহর্ষি লোমাশের কাছে সমাধান চেয়েছিলেন। মহর্ষি তাঁকে শ্রাবণ পুত্রদা একাদশী উপবাস পালনের নির্দেশ দেন। রাজা রীতি অনুসারে উপবাস পালন করলেন এবং ভগবান বিষ্ণুর কৃপায় তিনি একটি যোগ্য সন্তান লাভ করলেন।
এই উপবাসের গুরুত্ব কেবল শিশুদের সুখের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি জীবনের সকল ধরণের ঝামেলা, রোগ, দারিদ্র্য এবং পাপকেও ধ্বংস করে। এই দিনে ভক্তরা উপবাস, জপ, ধ্যান এবং সেবার মাধ্যমে ঈশ্বরের কৃপা লাভের যোগ্য হন।
দানশীলতা ও সেবার গুরুত্ব
শ্রাবণ পুত্রদা একাদশীর দিনটি কেবল উপবাসের দিন নয়, বরং দান ও সেবারও দিন। এই দিনে করা দান হাজার হাজার যজ্ঞ এবং পবিত্র স্নানের চেয়েও পুণ্যবান। শাস্ত্রে বলা হয়েছে-
না দানসম তীর্থ না দানসম তপঃ।
না দানসম যজ্ঞ না দানাতপরম সুখম।
অর্থাৎ, এই পৃথিবীতে দানের চেয়ে বড় আর কোনও তীর্থযাত্রা, তপস্যা, ত্যাগ বা সুখ নেই।
শ্রাবণ পুত্রদা একাদশীতে দান ও সেবার পুণ্য
শ্রাবণ পুত্রদা একাদশীতে, দরিদ্র, অসহায়, প্রতিবন্ধী এবং দুস্থদের খাদ্য ও শস্য দান করলে বিশেষ পুণ্য লাভ হয়। প্রতিবন্ধী শিশুদের আজীবন খাবার (বছরে একদিন) প্রদানের জন্য নারায়ণ সেবা সংস্থার সেবা প্রকল্পে অংশগ্রহণ করুন এবং এই পবিত্র দিনের সর্বোত্তম পুণ্য লাভ করুন।