সনাতন ধর্মে একাদশী উপবাসের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। এই পবিত্র একাদশীদের মধ্যে, মাঘ মাসের কৃষ্ণপক্ষের (কৃষ্ণপক্ষ) একাদশীতে পালিত ষষ্ঠীলা একাদশীকে বিশেষভাবে পুণ্যবান বলে মনে করা হয়। এই একাদশীকে ভগবান বিষ্ণুর আশীর্বাদ গ্রহণ, পাপ মোচন এবং মোক্ষ লাভের একটি চমৎকার সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ষষ্ঠীলা একাদশীর নাম ‘ষষ্ঠ’, যার অর্থ ছয়টি এবং ‘তিলা’, যার অর্থ তিল বীজ থেকে এসেছে। এই দিনে তিল ছয়টি উপায়ে ব্যবহার করা হয়: স্নান, লোশন প্রয়োগ, অগ্নি নিবেদন, খাদ্য দান এবং জল। তিলকে পবিত্রতা, তপস্যা এবং দানের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ষষ্ঠীলা একাদশীর পৌরাণিক তাৎপর্য
পৌরাণিক বিশ্বাস অনুসারে, এই একাদশী উপবাস পালন করলে জ্ঞাতসারে বা অজান্তে করা পাপ ধ্বংস হয়। যারা নিষ্ঠা ও নিষ্ঠার সাথে ষষ্ঠীলা একাদশী পালন করেন তারা দারিদ্র্য, রোগ এবং দুঃখ থেকে মুক্তি পান। এই উপবাস বিশেষ করে সম্পদের অপব্যবহার বা দান না করার ফলে সৃষ্ট পাপ থেকে মুক্তি পায়। ভগবান বিষ্ণু এই উপবাসে গভীরভাবে সন্তুষ্ট হন এবং তাঁর ভক্তদের সুখ ও সমৃদ্ধি দান করেন।
দান ও সেবার গুরুত্ব
ষষ্ঠীলা একাদশী কেবল উপবাস ও উপাসনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি এমন একটি উৎসব যা দান ও সেবার চেতনা জাগ্রত করে।
এই দিনে তিল, শস্য, বস্ত্র, খাদ্য এবং অর্থ দান করলে শাশ্বত পুণ্য লাভ হয়।
শাস্ত্রে বলা হয়েছে যে অভাবীদের দান করলে শতগুণ ফল পাওয়া যায়।
শ্রীমদ্ভগবদগীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন-
‘যজ্ঞদানতপ: কর্ম ন ত্যজ্যং কার্যমেব তৎ।
যজ্ঞ দানম তপশ্চৈব পাবনানি মনীষিণাম।
অর্থাৎ, যজ্ঞ, দান এবং তপস্যা – এই কর্মগুলি ত্যাগ করার যোগ্য নয়, কারণ এগুলি মানুষকে পবিত্র করে।
ষষ্ঠীলা একাদশীতে দান ও সেবার পুণ্য
ষষ্ঠীলা একাদশীর শুভ তিথিতে, নারায়ণ সেবা সংস্থার দুস্থ, অসহায় ও প্রতিবন্ধী শিশুদের খাওয়ানোর প্রকল্পে সহযোগিতা করে পুণ্যের অংশীদার হোন।