নির্জলা একাদশী
সনাতন ধর্মে একাদশী তিথির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে, এবং তার মধ্যে নির্জলা একাদশীর স্থান বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এটি জ্যৈষ্ঠ মাসের শুক্লপক্ষের একাদশী তিথিতে উদযাপিত হয়। “নির্জলা” শব্দের অর্থ হলো—”পানি ছাড়া উপবাস”, অর্থাৎ এই দিন পানীয় গ্রহণ নিষিদ্ধ থাকে। এই উপবাসটি বিশেষভাবে তপস্যা এবং আত্মশুদ্ধির জন্য পরিচিত।
নির্জলা একাদশীর পौरাণিক প্রেক্ষাপট এবং গুরুত্ব
ধর্মগ্রন্থ অনুযায়ী, যে ব্যক্তি এই দিনে উপবাস করে শুধুমাত্র জল পান না, বরং সকল ধরনের ভোগ ও বিলাসিতা পরিত্যাগ করে, তাকে সমস্ত পাপ থেকে মুক্তি মেলে এবং ভগবান বিষ্ণুর বিশেষ কৃপা লাভ হয়। এই দিনটি বিশেষভাবে তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, যারা অন্যান্য একাদশী উপবাস পালন করতে পারেন না, কারণ নির্জলা একাদশীর উপবাসের ফল অন্যান্য সব একাদশীর উপবাসের সমান হিসাবে গণ্য হয়।
পৌরাণিক কাহিনীতে বলা হয়েছে যে, ভীম সস্ত্রীক শ্রীকৃষ্ণের কাছে জানতে চেয়েছিলেন যে, তিনি কীভাবে সব একাদশীর উপবাস পালন করতে পারেন, তখন শ্রীকৃষ্ণ তাকে নির্জলা একাদশী পালন করার উপদেশ দেন। এই উপবাস পালনের ফলে শুধুমাত্র ভৌত সুখ নয়, আত্মিক উন্নতিও লাভ হয়।
দান করার গুরুত্ব
নির্জলা একাদশী দিনটি তপস্যা এবং আত্মশুদ্ধির পাশাপাশি দান এবং সেবার দিনও। এই দিন করা দানের বিশেষ পুণ্য থাকে। ভগবদগীতা এবং অন্যান্য শাস্ত্রগুলিতে বলা হয়েছে:
“যজ্ঞদানতপঃকর্ম ন ত্যাজ্যং কর্মমেব তৎ।
যজ্ঞো দানং তপশ্চৈব পাৱনানি মণীষিণাম॥”
অর্থাৎ, যজ্ঞ, দান এবং তপস্যা—এই তিনটি কাজ ত্যাগ করা উচিত নয়, বরং এগুলি অবশ্যই করতে হবে কারণ এগুলি মহামান্যদের পবিত্র করে।
নির্জলা একাদশীর পবিত্র দিনে দান এবং সেবা
নির্জলা একাদশী দিনে দীন-দুঃস্থ এবং প্রতিবন্ধী শিশুদের খাবার দেওয়া এবং তাদের সাহায্য করা অত্যন্ত পুণ্যপূর্ণ কাজ হিসেবে গণ্য হয়। নারায়ণ সেবা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রতিবন্ধী শিশুদের আজীবন খাবার দেওয়ার (বছরে একদিন) সেবাকর্মে অংশগ্রহণ করুন এবং এই পবিত্র দিনে পুণ্যের ফল লাভ করুন।
নির্জলা একাদশীতে খাবার দেওয়ার সেবাকর্মে সহায়তা করুন