প্রিয়াংশ… উত্তর প্রদেশের ঝাঁসির বাসিন্দা, পাঁচ বছর বয়সী এক নিষ্পাপ শিশু। যে বয়সে শিশুরা সাধারণত খেলার মাঠে আনন্দে লাফিয়ে-ছুটে বেড়ায়, ঠিক সেই বয়সে জন্মগত শারীরিক অক্ষমতার কারণে প্রিয়াংশের চলাফেরা ছিল সীমাবদ্ধ।
জন্ম থেকেই তার একটি পা অন্যটির চেয়ে ছোট ছিল। তার পক্ষে হাঁটাচলা করা সহজ ছিল না; প্রতিটি পদক্ষেপেই তাকে লড়াই করতে হতো। সমবয়সী শিশুরা যখন দৌড়াত, খেলত আর আনন্দে মেতে থাকত, তখন সে-ও তাদের সাথে দৌড়ানোর, হাসার এবং শৈশবের সেই সুন্দর মুহূর্তগুলো উপভোগ করার তীব্র আকাঙ্ক্ষা করত। কিন্তু শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে তাকে কেবল দূর থেকে দাঁড়িয়ে সেসব দৃশ্য দেখতে হতো। খেলার মাঠে যাওয়ার স্বপ্ন সে দেখত ঠিকই, কিন্তু তার পা তাকে সেই ভার বহনে সহায়তা করতে পারত না।
একদিন তার বাবা-মা তাকে ‘নারায়ণ সেবা সংস্থান’-এ নিয়ে যান। সেখানে প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের দল তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এবং জাপানি ও জার্মান প্রযুক্তিতে তৈরি অত্যাধুনিক থ্রি-ডি (3D) প্রিন্টেড ‘নারায়ণ মডুলার কৃত্রিম অঙ্গ’ (Narayan Modular Artificial Limb) সংযোজন করে দেয়।
আজ প্রিয়াংশ নিজের পায়ে আত্মবিশ্বাসের সাথে দাঁড়িয়ে আছে। সে এখন অনায়াসে হাঁটতে পারে, স্কুলে যায়, বন্ধুদের সাথে খেলে এবং শৈশবের সেই আনন্দ উপভোগ করছে যা থেকে সে আগে বঞ্চিত ছিল।
তার মুখের হাসি এখন নতুন স্বপ্নের সূচনার গল্প বলে। নতুন পদক্ষেপ আর নতুন আশা নিয়ে প্রিয়াংশ জীবনে এগিয়ে যেতে প্রস্তুত…