পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ারের বাসিন্দা ২৫ বছর বয়সী পূজা কামির জীবন ছিল নানা প্রতিকূলতায় ভরা। মাত্র আট বছর বয়সে পিঠের নিচের অংশে একটি টিউমার বা মাংসপিণ্ডের কারণে তাঁর অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। দুর্ভাগ্যবশত, সেই অস্ত্রোপচার সফল হয়নি। যে মেয়েটি একসময় প্রাণচঞ্চলভাবে ঘুরে বেড়াত আর স্বপ্ন দেখত, সে হঠাৎই শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে এক কঠিন জীবনসংগ্রামের মুখোমুখি হলো।
ব্যর্থ অস্ত্রোপচারের ফলে তাঁর পায়ের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। হাঁটাচলা তো দূরের কথা, প্রাত্যহিক সাধারণ কাজগুলো করাও তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল। তাঁর সুস্থতার আশায় বাবা-মা বহু হাসপাতাল ও চিকিৎসকের দ্বারস্থ হয়েছিলেন, কিন্তু প্রতিবারই তাঁদের হতাশ হতে হয়েছিল।
সময় গড়িয়েছে, কিন্তু পূজা ও তাঁর পরিবার কখনোই হাল ছাড়েননি। অবশেষে তাঁরা ‘নারায়ণ সেবা সংস্থান’-এর শরণাপন্ন হন। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা তাঁর শারীরিক অবস্থা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করেন এবং সফলভাবে তাঁর পায়ে অস্ত্রোপচার করেন।
আজ পূজা—যিনি একসময় বছরের পর বছর অন্যের ওপর নির্ভরশীল থাকতে বাধ্য হয়েছিলেন—তিনি নিজের পায়ে শক্ত হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তিনি এখন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে হাঁটেন, নিজের দৈনন্দিন কাজগুলো নিজেই সামলান এবং এক নতুন জীবনের পথে এগিয়ে চলেছেন। তিনি সেলাইয়ের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন এবং ক্রমশ স্বনির্ভরতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন।
পূজার চোখে একসময় যে বেদনা ও হতাশা ছিল, আজ সেখানে আত্মবিশ্বাস ও আশার দীপ্তি। তিনি এখন তাঁর স্বপ্নগুলোকে নতুন করে ডানা মেলতে প্রস্তুত…